মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার আলু রফতানিতে আবারো স্লট বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে। এতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আজ থেকে আলু আমদানি বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৬ নভেম্বর আলু ও পেঁয়াজ রফতানির স্লট বুকিং বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। পরে তা চালু হলে পুনরায় এ দুটি পণ্যের আমদানি শুরু হয়।
হিলি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল সকাল থেকে এ বন্দর দিয়ে পুরনো স্লটের আলু আমদানি বন্ধ থাকলেও বিকালে তা আবার শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১২ ট্রাক আলু আমদানি হয়েছে। তবে এদিন পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানি স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে স্লট জটিলতায় এলসিকৃত আলু আমদানি না হওয়ায় আমদানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন। পাশাপাশি সরবরাহ ঘাটতির কারণে দেশের বাজারে আলুর দাম বাড়বে বলে দাবি তাদের।
হিলি স্থলবন্দরের আলু আমদানিকারকরা জানান, দেশের বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে আলু আমদানি অব্যাহত রেখেছিলেন আমদানিকারকরা। তবে পশ্চিমবঙ্গে আলু ও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে গত ২৪ নভেম্বর হঠাৎ করেই এ দুটি পণ্যের স্লট বুকিং বন্ধ করে দেয় রাজ্য সরকার। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা দেনদরবার চলে। পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ব্যতীত অন্য রাজ্যের আলু ও পেঁয়াজ রফতানি হবে—এমন শর্তে গত ২৬ নভেম্বর রাত থেকে আবারো স্লট বুকিং শুরু করে রাজ্য সরকার। দুইদিন বন্ধ থাকার পর গত ২৭ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে আলু ও পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়।
তবে ভারতের অন্য রাজ্যের পেঁয়াজ রফতানিতে কোনো নির্দেশনা না থাকলেও ২৭ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত স্লট বুকিংকৃত আলু রফতানির শর্ত দেয়। এরপর নতুন করে আলুর স্লট বুকিং হবে না বলেও জানিয়েছিল তারা। সেই অনুযায়ী গতকাল ছিল শেষ দিন, তাই নতুন করে আলুর স্লট বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।
হিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আলম জানান, এ বন্দর দিয়ে গত শনিবার ৫২টি ট্রাকে ১ হাজার ৬২৭ টন আলু আমদানি হয়েছে। তবে গতকাল সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোনো আলু আসেনি। বিকালে আবারো ভারত থেকে আলু আমদানি শুরু হয়। তখন সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত পরীক্ষণ শুল্কায়ন করে তা ছাড় দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আমদানিকারকরা বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে বাজারজাত করেন।